নেতা বা কর্মী গঠনতন্ত্র না মানলে দলের ক্ষতি বাইরে থেকে হয় না, ভেতর থেকেই দল পচতে শুরু করে। এটা একদিনে বোঝা যায় না, কিন্তু ৩টা স্তরে আঘাত আসে।
*১. ভেতরের শৃঙ্খলা ভেঙে যায়*
– *গোষ্ঠীতন্ত্র তৈরি হয়:* যখন নিয়ম না মেনে পদ দেওয়া-নেওয়া হয়, তখন দলে গ্রুপিং শুরু হয়। কর্মীরা নেতার পেছনে না, ব্যক্তির পেছনে ছোটে।
– *যোগ্যরা সরে যায়:* যে কর্মী রাত জেগে কাজ করে সে দেখে নিয়ম না মানা লোকটাই পদ পাচ্ছে। তখন সে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়।
– *আস্থার সংকট:* আজ সভাপতি গঠনতন্ত্র ভাঙল, কাল সাধারণ সম্পাদক ভাঙবে। তখন কেউ আর কোনো সিদ্ধান্তকে বৈধ মনে করে না।
*২. আইনি ও সাংগঠনিক ঝুঁকি*
– *নিবন্ধন বাতিলের ঝুঁকি:* বাংলাদেশে নির্বাচন কমিশনের RPO অনুযায়ী প্রতিটি নিবন্ধিত দলকে গঠনতন্ত্র মেনে কাউন্সিল করতে হয়, কমিটি জমা দিতে হয়। না মানলে নিবন্ধন স্থগিত পর্যন্ত হতে পারে।
– *মামলা ও পাল্টা কমিটি:* গঠনতন্ত্র না মানলে বঞ্চিত পক্ষ কোর্টে যায়, একই দলের দুইটা কমিটি হয়। ভোটের আগে এটা দলের জন্য সবচেয়ে বড় ক্ষতি।
– *অর্থের স্বচ্ছতা নষ্ট:* হিসাব-নিকাশ গঠনতন্ত্র অনুযায়ী না হলে চাঁদাবাজি, দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে এবং দল কালো টাকার দল হিসেবে চিহ্নিত হয়।
*৩. জনগণের কাছে ভাবমূর্তি নষ্ট*
– *দ্বিচারিতা প্রকাশ পায়:* আপনারা মুখে গণতন্ত্র, আইনের শাসনের কথা বলবেন, কিন্তু নিজের দলেই গণতন্ত্র মানবেন না — জনগণ এটা খুব দ্রুত ধরে ফেলে।
– *ভোটের মাঠে প্রভাব:* সাধারণ মানুষ ভাবে, যে দল নিজের গঠনতন্ত্র সামলাতে পারে না, সে দেশের সংবিধান কীভাবে সামলাবে?
– *মিডিয়া ট্রায়াল:* এখন সবকিছু ফেসবুকে আসে। একজন নেতার নিয়ম ভাঙার ভিডিও পুরো দলের বদনাম করে দেয়।
এক কথায়, গঠনতন্ত্র না মানা মানে দলকে ব্যক্তির সম্পত্তি বানিয়ে ফেলা। তখন দল আর দল থাকে না, ফ্যান-ক্লাব হয়ে যায়। আর ফ্যান-ক্লাব দিয়ে ভোট হয় না, নির্বাচন হয় না, রাষ্ট্র চালানো যায় না।
লেখক: এনামুল হক
সভাপতি, নদী ও পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন বাংলাদেশ,
সাবেক সাধারণ সম্পাদক, রাজশাহী জেলা আইনজীবী সমিতি।
সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বিএনপি রাজশাহী জেলা শাখা।

