জুলাই অভ্যুত্থানের সূচনা সরকারি চাকরির নিয়োগকে কেন্দ্র করে। তাই নিয়োগ পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর করারপরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ।
বুধবার, এপ্রিল ৮, ২০২৬, সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনঅনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে তিনি এ পরামর্শ দেন।
ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, ৮ এপ্রিল কেবল একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠা দিবস নয়, বরং এটি দেশের প্রশাসনিকমেধা, নেতৃত্ব ও রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতা যাচাইয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক মাইলফলক।
উপদেষ্টা বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬ এর “রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কার” অধ্যায়ে শক্তিশালী পাবলিক সার্ভিস কমিশনগঠনের কথা বলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অন্তবর্তীকালীন সরকার যে ৩টি কমিশন গঠনের প্রস্তাব করেছিল বর্তমান সরকার সেটি গ্রহণ না করে ০১টিপাবলিক সার্ভিস কমিশন বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেন। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত হাজার হাজার মেধাবী তরুণ–তরুণী এইকমিশনের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্যাডার সার্ভিসে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং দেশের উন্নয়ন, নীতি প্রণয়ন ও প্রশাসনিক নেতৃত্বেগুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।
উপদেষ্টা বলেন, একটি বিসিএস পরীক্ষায় প্রায় ৪ থেকে ৫ লক্ষ পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎপ্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা। এ কঠিন প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা দেশের জন্য মূল্যবান মানবসম্পদ হিসেবে প্রশাসনের নেতৃত্বেগুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তিনি আরও বলেন, একটি বিসিএস পরীক্ষার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন করা প্রয়োজন। নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরওআধুনিক ও সময়োপযোগী করার মাধ্যমে মেধাবী তরুণদের দ্রুত রাষ্ট্রীয় সেবায় সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন কেবল একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয়, এটিরাষ্ট্রব্যবস্থায় ন্যায়, মেধা ও বিশ্বাসযোগ্যতার প্রতীক। কমিশনের প্রতিটি কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক নেতৃত্বের ভিত্তিনির্মিত হয়।
প্রধান অতিথি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সম্মিলিত নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশনভবিষ্যতে আরও আধুনিক, দক্ষ ও বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে উল্লেখ করেন যে, কমিশনের বর্তমানদায়িত্বকালীন সময়ে কোনো প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেনি।
তিনি সকলকে আহ্বান জানান এমন একটি প্রশাসন গড়ে তুলতে— ‘যেখানে মেধা হবে একমাত্র মানদণ্ড,
ন্যায় হবে প্রতিটি সিদ্ধান্তের ভিত্তি, এবং জনগণের সেবা হবে সর্বোচ্চ অঙ্গীকার।
সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশনের মাননীয় চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেন, বিশেষ অতিথিজনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোঃ এহছানুল হক উপস্থিত ছিলেন।
স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন সচিবালয়ের সচিব ড. মোঃ সানোয়ার জাহান ভূঁইয়া। উক্ত অনুষ্ঠানেকমিশনের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


জুলাই
https://shorturl.fm/E4ywj